নির্মাণের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্মাণের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 15, 2026 ইং
নির্মাণের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং ছবির ক্যাপশন:

বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত নির্মিত একটি সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টান দিলেই বিটুমিন ও পাথরের আস্তরণ উঠে আসছে। তাদের অভিযোগ, কাদা ও ধুলাবালির ওপর নামমাত্র বিটুমিন স্প্রে করে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করায় সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৫৬ টাকা। পরে নন্দীগ্রাম উপজেলার ঠিকাদার আল মোমিনের মেসার্স অঙ্কন এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২৩ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখার পর অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বর্ষাকালে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং সম্পন্ন করা হয়। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়কের কিছু অংশে খালি পায়ে হাঁটাও সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে গেছে। তাদের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

এদিকে ঠিকাদার আল মোমিন দাবি করেন, তিনি কাজটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম হেলাল বলেন, কাজটি তার নামে কেনা হলেও বাস্তবে তার শ্যালক মোনারুল ইসলাম টুটুল কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, কাজের সময় এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং টানা বৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

রাজাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক রেজা বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে কার্পেটিং করা হয় না। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জুনের শেষ দিকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কার্পেটিংয়ের পরদিন থেকেই টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাস্তা শুকানোর সুযোগ পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজে ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আবহাওয়া ভালো হলে ঠিকাদারকে নিজ খরচে ত্রুটিপূর্ণ অংশ মেরামত করতে হবে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদ বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্তে যদি ঠিকাদার বা এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স