খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে চলমান সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য টানেই পিচের আস্তরণ উঠে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন বিটুমিন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পিচ ঢালাইয়ের আগে রাস্তার নিচের অংশ যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। ধুলাবালি ও মাটির ওপর সরাসরি বিটুমিন ঢেলে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো একটি কালভার্ট অপসারণ না করেই তার ওপর দিয়ে নতুন পিচ ঢালাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, সড়কে খুব পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণকাজে গাফিলতির কারণেই তিন দিনের মধ্যে পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খালের পাশের নিচু অংশে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ অংশ ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজটি ২০২৪ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা সম্পন্ন হয়নি।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মো. হাসান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং এটি নির্মাণ প্রক্রিয়ার একটি ধাপ মাত্র। পরবর্তীতে আরও একটি স্তর পিচ দেওয়া হবে, যা সড়ককে আরও মজবুত করবে।
এদিকে কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, কাজে প্রাইম কোট ব্যবহার না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কসমিক ডেস্ক