মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, ঝুঁকিতে সড়ক যোগাযোগ ও হাজারো পরিবার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, ঝুঁকিতে সড়ক যোগাযোগ ও হাজারো পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 21, 2026 ইং
মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, ঝুঁকিতে সড়ক যোগাযোগ ও হাজারো পরিবার ছবির ক্যাপশন:

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সেতু রক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ সেতু রক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ নদীর প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসের ফলে প্রায় ১৫০ মিটারেরও বেশি এলাকায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত বাঁধের নিচের মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আবহাওয়া ও উজানের পরিস্থিতির কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানে ভারি বর্ষণের প্রভাবে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, ভাঙন রোধে অতীতে নেওয়া অস্থায়ী উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। তাদের মতে, স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার পানির প্রবল চাপে আগের সুরক্ষা কাঠামো টিকতে পারেনি। ফলে নতুন করে বড় আকারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চরাঞ্চলের কৃষিতেও। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বাদামসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের ব্যারাজগুলোতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অবকাঠামো, কৃষিজমি এবং বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক এবং অন্যান্য টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু সেতু বা সড়ক নয়, পুরো এলাকার জনজীবন ও অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য হিরো আলমের

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য হিরো আলমের