রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, বাংলাদেশ একটি “অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণারোপিত দেশ”, যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানোর লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স বা কর্মদল গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের কাজ হবে বিদ্যমান নীতিগত বাধা চিহ্নিত করে তা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা।
রপ্তানি খাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকার সব ধরনের পথ উন্মুক্ত রাখছে। যোগ্য রপ্তানিকারকরা যাতে সহজে বন্ড সুবিধা বা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তার মতে, রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও কার্যকর করতে নীতিগত নমনীয়তা জরুরি।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের বাধার মুখে না পড়েন, সে জন্য একটি বিশেষ অভিযোগ গ্রহণের ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের জন্য সরকারের দরজা বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করা। এজন্য প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের অর্থনৈতিক নীতি, রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং শ্রমবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নীতিগত বক্তব্য ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়। তবে বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নীতির ধারাবাহিকতার ওপর।
কসমিক ডেস্ক